শুভাশীষকে
চিঠি ' ......………. মুনা চৌধুরী
পর্ব ৩ [১৪ নম্বর চিঠি থেকে ১৮ নম্বর চিঠি পর্যন্ত]
শুভ,
চোখটা ভিজে গেলো আবার। All I want to do is to close my eyes and go back in time
and drown myself in those bittersweet, vivid unforgettable moments!
আমার কিচ্ছু বলতে ইচ্ছে করছেনা। তুমি তো জানোই when silence is the best state of mind আমি চুপ হয়েই থাকি।
নিলিশ্বরী
২6শে মে ২০১৬,
ধানমন্ডি, ঢাকা
''দুআনা মোর দুঃখ ছিল/চোদ্দআনা সুখ/জানালাপারের গন্ধমাখা/চম্পাবরুন মুখ''- অনেক আদর করে, দুহাতে তোমার অভিমানী মুখটা ধরে বলতাম। তোমার সেই অদূরে, দুঃখী দুঃখী, অভিমানী চম্পাবরণ মুখটা কি এখনো সেইরকম আছে?
লোকে বলে প্রেম ফিকে হয়, যৌবন হয় ক্ষয়িষ্ণু, অর্থ হয় অনর্থ- কিন্তু আমি জানি আমার সেই চম্পাবরণ তুমি এসবে বিশ্বাস করোনা। আমি জানি তুমি এখনো বিশ্বাস করো স্বপ্ন দেখার, প্রত্যাবর্তনের, বৃত্ত ভাঙার,
metamorphosis আর miracleএর। তুমি এখনো বিশ্বাস করো অলীক বিস্ময়ের আর রূপান্তরের গল্পে যেখানে রাজপুত্র সিদ্ধার্থ হয়ে যান করুণাসিন্ধু বুদ্ধ; যেখানে 'রক্ত করবী'র নন্দিনী যক্ষপুরীর লোহা, পাথর আর কবন্ধ গুহায় শ্বেত শুভ্র ফুল ফোটায়, যন্ত্রের ঘরে প্রাণের খবর পাঠায় আর বসে থাকে রঞ্জনের অপেক্ষায়। তোমার গল্পে থাকে প্রাণের বাতাস, প্রাণদ বাতাস আর ফুটে থাকে শুভ্র সাদা বিশুদ্ধ ফুল যা তুমি কুড়িয়ে আনো তোমার প্রজাপতির মতো লাল, নীল, হলুদ পাখামেলে উড়ে বেড়ানো মেয়েদের জন্যে। তোমার গল্পে হৃদয়বান ও মেধাবী মানুষেরা জয়ী হয়, তাদের বাস থাকে এমন এক পৃথিবীতে যেখানে নদীরা গাঢ় নীল, ঘাসফড়িঙেরা আরো সবুজ, যেখানে জন্মান্ধ মেয়ে স্বপ্ন দেখে ঝলমলে বাজ ফিনিশতের আর অন্ধ হয়েও খুঁজে ফেরে অলিকের সন্ধান।
তোমার বিশ্বাসের কারণেই আমি ঘুমন্ত মাঠ কাঁপিয়ে, বুনো ঘোড়া দাপিয়ে ঝম ঝম করে ছুটে আসলাম ১৯টা বসন্ত পেরিয়ে। তোমায় নির্দ্বিধায় বলতে পারি আমার সমস্ত ঋণ তোমার কাছে, যা কিছু করি, যা কিছু লিখি, যা কিছু গাই। নদী তে নদী তে দেখা হয় না, তাই আমাদের দুজনারও দেখা হয় না, কিন্তু আমরা বয়ে যাই সমান্তরালে। তুমি চুপ হয়েই থাকো, শুনে যাও, আর আমি বলে যাই,
ফের যদি শুরু করতেই হয়, আমার পছন্দ একই থাকবে:গোলাপঝাড়ের বেড়া আমার চাই।
আমি যাবো সেই একই রাস্তায় .....
দুই পাথরটিলায় আমার ছায়া বিছিয়ে দেব
যেন পাখি কোনো ডালে নীড় বাঁধবার সুযোগ পায় .......
আরো কাছে এস, শোনো,
রুটির টুকরো একটুখানি নাও চুমুক দাও শরাবে,
নেতিয়ে পড়া উইলোর মতো আমায় ছেড়ে যেও না।
যদি বা কখনো ফিরি, তো ফিরে আসবো
একই গোলাপের কাছে, একই পদচিহ্নরেখা ধরে……
দেখলে, শুধু তুমি নও আমিও কেমন করে আঁকড়ে ধরে রেখেছি তোমার প্রাণের মাহমুদ দারবিশ এর ভাবনাগুলোকে।
শুনছি শাফকাত আমানত আলীর খামাজ- ‘মোরা সাইয়া মোসে বোলে না’…. ওর প্রেয়সী ওর সাথে কথা বলছে না, ও হয়ে গেছে শূন্য ঘর, ওর দৃষ্টি শুধুই খুঁজে বেড়াচ্ছে হারিয়ে যাওয়া প্রেয়সীকে। সেই অদ্ভুত সুরের ব্রীড়ায়, বোধে, আর্তিতে, pathos আর প্রেক্ষাপনে আমিও আটকে গেছি।
মৌনতা নির্মোহে কেটে নিয়ে যাক তোমার অখণ্ড সময়!!
শুভাশীষ
30শে মে ২০১৬,টাওয়ার হিল, লন্ডন
শুভ,
‘মহারাজ, একি সাজে এলে হৃদয়পুরমাঝে/চরণতলে কোটি শশী সূর্য মরে লাজে… পলক নাহি নয়নে, হেরি না কিছু ভুবনে/নিরখি শুধু অন্তরে সুন্দর বিরাজে’। তুমি কি সত্যি সত্যি রবিঠাকুরের মহারাজের মতো ১৯টা বসন্ত পেরিয়ে এলে শত অগ্নুৎপাত, দ্রোহ আর অভিমান পেরিয়ে? মাঝে মাঝে মনে হয় এখনো তন্দ্রায় আছি, বোধ হয় এই বুঝি তুন্দ্রা ছুটে গেলো। একটা আনন্দঘন তন্দ্রায় আচ্ছন্ন আমি। চাইছিনা এটা ভেঙেগিয়ে আমি উঠে যাই! হারাই হারাই সদা ভয় পাই এর মতন। চলতে থাকুক এই মহাকাল কেননা 'এমন দিনে তারে বলা যায়…. এমন দিনে মন খোলা যায়… দুজনে মুখোমুখি, গভীর দুঃখে দুঃখী আকাশে জল ঝরে অনিবার… শ্রাবণবরিষনে একদা গৃহকোণে দুকথা বলি যদি কাছে তার, তাহাতে আসে যাবে কিবা কার'। সত্যি কারো তো কিছু আসবে যাবে না আমরা যদি মনের ভারখানা কমাই! মৌনতা সত্যিই বয়ে নিয়ে যায় স্মৃতি-বিস্মৃতির অখণ্ড সময়ে।
“যখন বিস্মৃতি পায়ে পায়ে আসে, তোমার খুঁজে পাই চিলেকোঠায়। সিঁড়ি ভেঙে উঠি সাবধানে, খুব সাবধানে। সেই কিশোরীবেলায়, চিলেকোঠায় ছোট্ট ঘরে তেলরং শিখতাম, ভৈরবীর সুর তুলতাম তানপুরায়, আর চড়ুইভাতির আয়োজন করতাম ভরদুপুরে। সেই ঘরটায় হাজার সিঁড়ি ভেঙে, অগণন মাড়িয়ে মাড়িয়ে আজও আমি উঠতে থাকি মাঝরাতে....
তোমায় খুঁজে ফিরি তেলরং এর বাক্সে, প্যালেটে, ক্ষয়ে যাওয়া বুরুশে, ছেড়া ফাটা ক্যানভাস ফ্রেমে, তার্পিনের গন্ধে, তানপুরার ছেড়া তারে, আর উলুতে ধরা সারগাম এর স্বরলিপিতে। ওটা ছিল আমার কিশোরীবেলা, ওখানে তোমাকে পাইনা। ওখান থেকে দৌড়ে যাই যৌবনে তও তোমায় পাইনা; কিন্তু শেষমেশ পেয়ে যাই শেষ বিকেলের পড়ন্ত বেলায়। তোমার নিঃশ্বাস, পদচারণা, বেখেয়ালি হাসি শুনতে থাকি এখানে সেখানে। একটা অদ্ভুত সুন্দর তেলরং দেখি- চিলেকোঠার শিক ধরে আকাশের তারা দেখছো পুরুত রাজা হয়ে এক নির্বাসিত তুমি।
চিৎকার করে নিজেকে বলি:
নিলিশ্বরী, ওখানে ওর শরীর নেই
তুমি ছুঁতে পারবে না ওকে
তোমার মানুষটা তো আসলে ওখানে নেই
তোমায় গুহায় রেখে ও মৃগয়ায় গিয়েছিলো
শিকারী পুরুষ হয়ে। হরিণ শাবক নিয়ে
ও আর ফেরেনি কখনো” …..
লিখে রেখে যাচ্ছি আমার খন্ড খন্ড প্রেমের এপিটাফ যা পৃথিবীর হাটে তুমি পাবেনা। লিখে রেখে যাচ্ছি কবিতা, গল্প, উপন্যাস, এলোমেলো সব উপাখ্যান, স্বপ্নে কুড়িয়ে পাওয়া আদি অক্ষর। লিখে রেখে যাচ্ছি প্রেমের পংক্তিগুলো, অবিরত, অবিরাম, ঘরের দেয়ালে, মেঝেতে, কার্নিশে, আমার সমস্ত শরীর জুড়ে। লিখে যাচ্ছি, লিখে রেখে যাচ্ছি, শুধুই তোমার জন্য লিখে রেখে যাচ্ছি…
নিলিশ্বরী
৫ই জুন ২০১৬,ধানমন্ডি, ঢাকা
নীল,
তুমি এমন করে বলোনা, এমন করে বলোনা আমাকে আর। Have some mercy please. এর চেয়ে ‘পুনর্বার স্রোতে ভাসছে হাঁস, ভাসতে দাও/কোমল জলের ঘ্রাণ মাখুক হাঁসেরা/বহুদিন পর ওরা জলে নামছে, বহুদিন পর ওরা কাটছে সাঁতার/স্রোতে রাজহাঁস আসছে, আসতে দাও/বহুদিন পর যেনো রোদ আসছে, আসতে দাও/নত হতে দাও আকাশকে/আর একটু নত হোক আলো আর একটু নির্জন হোক অন্ধকার!..... বহুদিন পর যেনো শুঁকছি বকুল!/বহুদিন তোমার ভিতরে যাইনা/ বহুদিন বকুল ফুলের ঘ্রাণ/পাইনা এ মনে!ঐ রাজহাঁস জল থেকে আরো জলে/ঢেউ থেকে আরো ঢেউয়ে ছড়াতে ছড়াতে পৌঁছে যাবো আগে’ - তোমার সব প্রেমিকের প্রতিদ্বন্দ্বী, চির সবুজ আবুল হাসান থেকে, মনে পড়ে? আমরা কেমন দুজনে ভালোবাসতাম আবুল হাসান আর সুরাইয়া জুটি। তুমি খুঁজে খুঁজে এনে দিতে ওদের কবিতাগুলো। তখনতো এযুগের মতো ইন্টারনেট ছিলোনা, তখন বই এর পৃষ্ঠাগুলো ছুতে হতো, হাতে ধরা যেত। আমাদের কাছে এদের কবিতার বইগুলো ছিলোনা কিন্তু আমরা যক্ষের ধনের মতো খুঁজে খুঁজে বের করতাম ওদের দুজনার কবিতাগুলো। বরাবরের মতো তুমি আমায় বলতে অব্বৃত্তি করতে আর মুগ্ধ হয়ে অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে থেকে আমায় শুনে যেতে। As you
said, the immense calmness in my voice started to stoke every cell of your
body. তোমার সেই মুগ্ধতায় আমিও মুগ্দ্ধ হয়ে থাকতাম। আমার মতো একজন সাধারণ আমি তোমার কাছে কেমন অসাধারণ হয়ে যেতাম!
তোমায় যখন তাড়িয়ে দিয়েছি আমার জীবন থেকে তখন আমি নিজেই নিজেকে তাড়িয়ে বেড়িয়েছি। তাড়িয়ে বেড়িয়েছি সব স্মৃতি থেকে। একটা ঘোরের মধ্যে সময় কাটিয়েছি। তুমি যেমন বলো সব হারিয়ে শূন্য হাতে বসে ছিলে, তেমনি আমিও সব হারিয়ে শূন্য হয়ে গেছিলাম। শান্তির খোঁজ করেছি শুদ্ধতার মাঝে।
মহাগ্রন্থে ৬৬৬৬টা আয়াত আছে যা এক একটা সিঁড়ি। সেই অগণন মাড়িয়েই অবিনশ্বরএর কাছে যেতে চেয়েছি। স্বপ্নের ঘোরে সময়কে করতে চেয়েছি স্থবির, হারিয়ে ফেলতে চেয়েছি ঘড়ির কাঁটা। যারা শুদ্ধ মানুষ, অশুদ্ধ চিন্তা থেকে অনেক দূরে থাকেন, অবিনশ্বরের সান্নিধ্যে থাকেন, পৃথিবীতে থেকেও যারা নেই, যাদের পদচারণা শুধুই অলৌকিক স্বপ্নের বাগানে সেই সব মানুষদের পথের পথিক হতে চেয়েছি। ভেবেছি, একজন মানুষ-নিলিশ্বরীকে কালবৈশাখীর ধুলোর মতো উড়িয়ে দেব, ঝেড়ে ফেলবো পাখির পালকের মতো সব স্বপ্ন থেকে।
একবার আমার এক তুর্কি বন্ধুর সাথে গিয়েছি তুরস্কে। সেখানে দেখেছি পৃথিবীর আনাচে কানাচে থেকে দলে দলে আসা মানুষ দরবেশদের বিশেষ সমাবেশে। তারা চার পাশের মানুষদের দেখেও দেখেনা। তারা ঝেড়ে ফেলে যাবতীয় বিলাস জীবন। তাদের সঙ্গে আমিও মুসাহাবা করেছি কিন্তু আমরা কেউ কাউকে চিনতে পারিনি। চিনতে পারিনি সেইসব কাওয়ালদের যারা ভারত থেকে এসেছিলেন, যাদের গান সবাইকে অবিনশ্বরের প্রেমে দিওয়ানা করে দিয়েছিলো। চিনতে পারিনি আরো সেই সব আরব থেকে আসা মার্গ জগতের দার্শনিকদের, যারা কথা বলতেন না কারো সাথে। যাদের দৃষ্টি ছিল কোথায়, তারা নিজেরাও তা জানতেন না। সেখানে ছিল পারস্য থেকে আসা এমন সব শিল্পীরা যারা আঁকতেন ছবি সব অশরীরি আত্মাদের। যেন হাজার বছরের মাহ্ফিল বসেছিল সেখানে স্বর্গের সুগন্ধ সুধার কিছুটা সুগন্ধ নিয়ে! ঠিক শিরিন মাগরিবির বর্ণনার মতো, “ভালোবাসার জলসা তোমায় ডাকছে/যদিও তার বাঁশিখানা তুমি দেখতে পাবে না। সূরা পানকারী মাতালেরাও থাকবে তোমার দৃষ্টির গোচরে/কিন্তু তাদের সূরা থাকবে দৃষ্টির অগোচরে। হাজারো ভ্রমণকারী মরুযাত্রীদল ইতিমধ্যেই পাড়ি দিয়েছে সেই জলসাঘর! অবাক হয়ো না, যদি তাদের পথ-চিহ্ন তোমার দৃষ্টিগোচর না হয়”।
আমি অবাক হইনি ঠিকই তাদের পথ-চিহ্ন দেখিনি বলে, কিন্তু তাদের সুর শুনেছি, আঁকা দেখেছি, অবাক বিস্ময়ে অবিনশ্বরের প্রেমে তাকিয়ে থাকা দেখেছি। আমিও হাজারো ভ্রমণকারী মরুযাত্রীদলের একজন হয়ে সময় অতিক্রম করেছি অবিনশ্বরের সেই অনিন্দসুন্দর জলসাঘরে। কত কবিতা, কত শায়েরি, কত রূবাইয়াত শুনেছি, মুগ্ধ হয়েছি, আত্মবিস্মৃত হয়েছি, আলকেমির ভাবনায় মগ্ন থেকেছি। সেই অমূল্য রতন, যা রহস্যের শেষ সীমানায় নিয়ে যাবে আমায় সমস্ত জাগতিক দুঃখ ভুলিয়ে। 'ন হন্যতে'র মির্চা'র মতো অনেকটা। অমৃতার সাথে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেভাবে মির্চা নিজেকে হারিয়ে ফেলেছিলো শুদ্ধতার খোঁজে, অনেকটা সেই রকম। মির্চার পথচলা ছিল ওর মতো, আমার পথচলা ছিল আমার মতো। অবিনশ্বর একেক মানুষকে এক এক পথের পথিকে রূপান্তর করেন। তখন অনুধাবন করেছি অর্থহীন কিছুই নয়- মসজিদ, মন্দির, গির্জা, সিনাগগ, অথবা পবিত্র প্যাগোডা। অর্থহীন নয় আল্পসের অশান্ত হিমবাহ, প্রশান্ত মহাসাগরীয় স্রোত, অথবা ভিসুভিয়াস এর হঠাৎ অগ্নিবৃষ্টি, মাসাইমারার সীমান্ত ছড়ানো সাফারি, জাভার দিগন্ত জোড়া রেইনফরেস্ট, নয়তো সেই নরম বিকেলি হাওয়া যেটা বয়ে যায় পদ্মার এই পাড়ে আমার বাড়ি থেকে পদ্মার ওই পাড়ে তোমার বাড়ির আঙিনায়!!!
Life is a journey for each of us; life is a battle, a
jihad for each and every one of us. My journey taught me to respect all of
those who is fighting his or her own battle.
কোনো বাবার অসুস্থ সন্তান, কোনো মায়ের সন্তান হারানোর বেদনা, কোনো শিশুর পিতৃহারা অথবা মাতৃহারা হওয়া ভগ্ন হৃদয়, কারো দারিদ্রতার অভিশাপ, হাজারো ঘরছাড়া-দেশছাড়া মানুষের নীল আকাশের নিচে হাহাকার। সমস্ত পৃথিবীটাই একটা ছেড়া সংসার: রামাল্লা, বার্লিন, বাগদাদ, সায়গন, কিংবা হিরোশিমা।
কত মানুষের কত ধরণের যুদ্ধ আর আমিও এদেরিই দলে থাকা একজন সাধারণ যোদ্ধা ছিলাম মাত্র। অবিনশ্বর হয়তো চেয়েছিলেন আমি যেন জীবনের এবং সৃষ্টির উদ্দেশ্য কিছুটা হলেও অনুধাবন করি। সেকারণে আমি তোমায় ভালোবেসে, তোমার ভালোবাসাকে উপলক্ষ করে, পথ হারিয়ে আবার পথের খোঁজ পেয়েছিলাম। God in His knowledge stripped me of you and in my
complete human weakness made me lost and helpless but then made me discover
myself all over again.
তুমি ঠিক বলেছ আমি পথের সন্ধান পেয়েছি কিন্তু তুমি জানোনা যে আমি একটা জাগতিক ইচ্ছে বিসর্জন দিতে পারিনি। তোমাকে ভালোবাসার যে এক অলৌকিক আনন্দের ভান্ডার ছিল সেটার তৃষ্ণায় আমি তৃষিত থেকেছি। I became a sky choking on clouds not knowing whether to
rain or shine or be clear. My thirst for your existence made me a failure
repeatedly and you became a reason for no reason. শওকত আলীর গজল এর মতো, “মায় উসে ভুল চুকা, ভুল চুকা/বান গায়ে তু কিউ ওয়াজা-বেওয়াজা”; তোমায় ভুলে গেছি, ভুলে গেছি/তুমি রয়ে গেলে কারণ হয়ে সবকিছুতে-অকারণে!
মহাগ্রন্থ বলা আছে ‘তবে আপনি তাদের বলে দিন আমার জন্য তো আল্লাহ্তালাই যথেষ্ট... আর আমি তো তার উপরই নির্ভর করে আছি’(৯:১২৯)। আপনি বলে দিন, আপনি বলে দিন!!! নিজেকে নিজে বলেছি বারবার কিন্তু সেখানে হেরে গেছি প্রতিবার। ক্ষমা চেয়েছি অবিনশ্বর এর দুয়ারে মাথা ঠুকে কেননা তোমার মতো একজন সাধারণ নিলিশ্বরীর বিরহে, নিলিশ্বরীর শূন্যতায়, একজন সাধারণ, এককালের অবিশ্বাসী-বিশ্বাসী শুভাশীষ অভস্ত হতে পারেনি বলে।
তুমি নীল, ঈশ্বরের বাগানের নিযুত কোটি ফুলের একটা, যাকে চিরটাকাল আদর করলেও আমার মন ভরবে না।
‘যে আমারে দেখিবারে পায়, অসীম ক্ষমায় ভালোমন্দ মিলায়ে সকলি’ । অবিনশ্বর যেন আমায় ক্ষমা করেন আমার আত্মকেন্দ্রিকতার জন্য, স্বার্থপরতার জন্য, অক্ষমতার জন্য। Pray for me so that the Almighty forgives me. What am I
without his forgiveness, without his benevolence.
শুভাশীষ
১০ই জুন ২০১৬,টাওয়ার হিল, লন্ডন
PS তোমাকে একটা বই পাঠিয়েছি DHLএ, Coleman Barks এর ’The Soul of Rumi’। বইটা যখন তুমি দুহাত দিয়ে ধরবে, ভাববে আমি তোমার হাত দুখানা ধরে আছি।
শুভ,
তুমি যখন চলে গেলে তুমি কাঁদছিলে না তবে তোমার পৃথিবী কাঁদছিলো। কাঁদছিলো চাদ, সূর্য আর নক্ষত্রেরও। আজও দেখি তোমার ঘর কাঁদে, কাঁদে মেঝে, দেয়াল আর অর্নিশগুলো। তুমি এক ঝলক শান্তির জন্য প্রাণ ভোরে কেঁদে নিতে পারো এখনো। কেঁদো নিতে পারো সেই শিশুটার জন্য যে আধপেটা, যার মাথার উপর ঠাঁই নেই কোনো। কেঁদে নিতে পারো প্রবল জলোচ্ছাসে কোনো বেদনার্ত মা স্বজন হারিয়ে যখন হতভম্ব- পানশালায় উন্মত্ত নারীরা তখন যদি প্রবল আনন্দে এলোমেলো। মানুষ যখন বিষ ছড়ায় কৃষকের ক্ষেতে, আগুন দেয় শিউলির বনে, যখন তাদের চোখে জ্বলজ্বল করে হিংসা, লোভ, আর ক্রোধের দাবানল- কেঁদে নিও, প্রাণ ভোরে কেঁদে নিও তুমি। “রোনে ওয়ালসে কাহো/উনকাভি রোনা রোনে/জিনকো মাজবুরিয়ে হালাত নে রোনে না দিয়া” … the cruelty of the circumstances that kept you from
crying otherwise you would have every reason to cry, beloved.
জানতাম তুমি চলে যাবে, কেননা দেখতে পেতাম ঘরপোড়া মানুষ তুমি, শূন্য মানুষ তুমি, চির অভুক্ত, চির পিপাসু, চির দুঃখী, অনন্তকাল বেদনায় পোড়খাওয়া আমার প্রেমিক পুরুষ তুমি। আমাকে চেয়েছো, নিয়েছো, খেলেছো, ফেলেছো কিন্তু আবার জড়িয়ে রাখতে চেয়েছো তোমার অতলান্তিকে। তোমার তৃষ্ণার্ত বুকে জলচাওয়া আর বাধঁছেড়া স্বপ্ন দেখা ছিলো আমাকে ঘিরেই। চলে যাওয়া দেখেছি আবার দেখেছি দেখা হবার কোনো এক অচিহ্নিত সময়ে, কোনো এক পবিত্র অপরাহ্নে। জেনে নিও, তোমায় হারিয়ে আমিও নিজেকে নিজে খুঁজে পেয়েছি উনিশটা বসন্তের প্রতিটাক্ষনে।
“People are like cities: We all have alleys and gardens
and secret rooftops and places where daisies sprout between the sidewalk
cracks, but most of the time all we let each other see is a postcard glimpse of
a skyline or a polished square. Love lets you find those hidden places in
another person, even the ones they didn't know were there, even the ones they
wouldn't have thought to call beautiful themselves.” মানুষ জনপদ ঘিরে বেড়ে ওঠা শহরের মতো। যে শহরে থাকে অলিগলি, ফুলের বাগান, লুকোনো ছাদ, চিলেকোঠা অথবা এমন সব চোখ এড়িয়ে যাওয়া ফাটা দেয়াল যেখানে বুনো ফুল ভাঙা ফুঁড়ে বেরিয়ে আসে। শহরের এতোসব হট্টগোল আর বিশাল স্থাপত্যের মাঝে লুকোনো কোনো ছাদ, চিলেকোঠা অথবা বুনো ফুল সাধারণ ভাবে চোখে ধরা পড়েনা। কিন্তু হঠাৎ ঐসব অনিন্দসুন্দর দৃশ্যপট মাঝে মধ্যে ঝলকে ওঠে। মানুষে মানুষের ভালোবাসাও ঠিক তেমনি। ভালোবাসা একটা নিমন্ত্রনহীন অতিথি যা ঝম ঝম করে হলদে মাঠ কাঁপিয়ে হুইসেল দিতে দিতে ছুটে আসে আর আবিষ্কার করে মানুষের গোপন রহস্যের ভান্ডারগুলোর!
ঠিক যেমনটা তুমি বলেছো, প্রত্যেকটা মানুষ ঈশ্বরের বাগানের একএকটা ফুল: গোলাপ, বেলী, চন্দ্রমল্লিকা, কাঠফুল, লিলি অথবা ম্যাগনোলিয়া। প্রত্যেক মানুষের অন্তরের ভেতর লুকিয়ে থাকা অনিন্দসুন্দর রহস্যময়তা এক জীবনে রহস্যই থেকে যায় যদিনা সেগুলো আবিষ্কৃত না হয়। রহস্যের দুয়ারের চাবি the door
to the unlimited খোলার জন্য সব মানুষের একটা উপলক্ষ লাগে। আমরাও সেইরকম কিছুটা ছিলাম। তোমার হাত ধরে আমি, আর আমার হাত ধরে তুমি, দুজনার জন্য দুজনে উপলক্ষ হয়ে সৃষ্টির সেই রহস্যগুলো খুঁজে বের করবার চেষ্টা করতাম।
তোমায় আমার কত কথাইনা বলার ছিল যা বলতে পারিনি। জানতাম সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে, আর একদিন দেখলাম সময় সত্যি হঠাৎ ফুরিয়েও গেলো। সেই থেকে আমি বসে থাকতাম কোনো এক পবিত্র অপরাহ্নের অপেক্ষায়, জীবনের এই পড়ন্ত বিকেলের অপেক্ষায়, যখন কথার ঝাঁপি খুলে আবার আমি বলে যাবো আমার সেই সব না বলা কথা।
Helpless nostalgia hangs in the stagnant air.
You clung to my wool shawl as we bathed in dying
twilight.
You clung to the warmth like an unborn child.
In those blurry moments, I was desperately trying to tell
you my story
Sing a familiar song that echoed in my hollow soul.
Time was running out. I knew, I felt.
Time was to leave you with something to remember me by.
Surrounded by dark truffle blue
in the semi
darkness of the dim lit chamber of mine
I indulge, in thoughts of my unspoken verses that were
meant for you ….
নিলিশ্বরী
১৬ই জুন ২০১৬,
ধানমন্ডি, ঢাকা
১৬ই জুন ২০১৬,
ধানমন্ডি, ঢাকা
http://www.alokrekha.com
এ শুধু প্রেমিক প্রেমিকার চিঠি নয় - এক কাব্য। প্রজ্ঞা ও জ্ঞানের সমন্বয়। এখানে সুফী কবি মাহমুদ দারবিশ এর ভাবনাগুলোকে কোথায় বন্দি করেছেন। সেই সাথে আমরা শুনছি শাফকাত আমানত আলীর খামাজ- ‘মোরা সাইয়া মোসে বোলে না’….ভাব ও ভাবনার অনন্য প্রকাশ। এত সাধনায় লেখার জন্য লেখককে অভিনন্দন। ভালো থাকবেন এবং আমাদের আরো ভালো লেখা উপহার দেবেন।
ReplyDeleteলেখকের প্রাপ্তি পাঠকের ভালোলাগায়. অনেক শুভেচ্ছা আপনাকেও.
Deleteদারুন লেখা ও অভিব্যক্তি। উত্কৃষ্ট চমৎকার জীবন বোধের প্রকাশ।অপূর্ব বিষয় বস্তু,ভাষাভাব ও শব্দচয়ন ও রচনা শৈলী মিলিয়ে অনবদ্য ও অনিন্দ্য। এখানে শুধু শুভ আর নীলের কাহিনী গাঁথা হয়নি আকল প্রেমের কথা বর্ণিত হয়েছে। আলোকরেখাকে ও লেখন মুনা চৌধরী অনেক ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা ।
ReplyDeleteThank you so much for appreciating.
Deleteচিঠিগুলো দারুন অভিব্যক্তিতে পূর্ন । শুভাশীষ ও নিলীশ্বরী'র মধ্যে যে কথোপোকথন চিঠির মাধ্যমে ভাব ও সাহিত্যের যে আদান প্রদান তা অনবদ্য। যেন গল্প পড়ছি। খুবই ভাল লাগলো। তাছাড়া জ্ঞান ও প্রজ্ঞার যে ছাপ লেখকের জ্ঞানের পরিধির প্রমান করে। খুব ভালো লাগলো। লেখক মুনা চৌধুরীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা।
ReplyDeleteThank you Shikha.
Deleteচিঠিগুলো শুধু শুভাশীষ ও নিলীশ্বরী'র ভালবাসার আদান প্রদান নয়। উচ্চ মার্গের সাহিত্য। এখানে দুজনের ভালো বাসার কথা ,ব্যক্তিগত জীবন যাত্রা সুফিবাদ বিশ্ব সাহিত্য গল্পের ছলে লেখককের লেখাকে করেছে সমৃদ্ধ। বিশেষ ভাবে আবুল হাসান আর সুরাইয়া জুটির কথা লেখাকে বিশেষত্ব দান করেছে । অনেক শুভাশিস লেখক মুনা চৌধুরীকে। সাথে আলোকরেখাকে ধন্যবাদ এমন উচ্চ মানের লেখা প্রকাশ করার জন্য।
ReplyDeleteThank you.
Deleteলেখকের হৃদয় নিংড়ানো অনুভূতির কি গভীর প্রকাশ।গহীন জগতে কখনো শান্ত যদি আবার কখনো জোয়ার ভাটায় আবার খরস্রোতা নদীর মত আঁকড়ে ধরে। অভিমানী চেতনার অভিব্যক্তি এই চিঠিগুলি । অনিন্দ্য সুন্দর "শুভাশীষকে চিঠি' গুচ্ছ মুনা চৌধুরীর দেশি ও বিশ্বসাহিত্যের উপর সাধনা ও জ্ঞানের পরিধি প্রকাশ করে । আমরা অপেক্ষায় থাকি এমন লেখা পড়ার জন্য । মনটা ভরিয়ে দিল। দারুন অনুভূতি বার বার পড়তে ইচ্ছে করে। ! আলোকরেখাকে ও লেখককে অনেক ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা ।
ReplyDeleteধন্যবাদ ও শুভকামনা আপনাকেও.
Deleteঅনিন্দ্য সুন্দর "শুভাশীষকে চিঠি' গুচ্ছ মুনা চৌধুরীর দেশি ও বিশ্বসাহিত্যের উপর সাধনা ও জ্ঞানের পরিধি প্রকাশ করে । আমরা অপেক্ষায় থাকি এমন লেখা পড়ার জন্য । মনটা ভরিয়ে দিল। দারুন অনুভূতি বার বার পড়তে ইচ্ছে করে। ! আলোকরেখাকে ও লেখককে অনেক ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা ।
ReplyDeleteঅনেক ধন্যবাদ.
Deleteলেখক মুনা চৌধুরীকে আন্তরিক অভিবাদন। তার শুভাশীষকে চিঠি ' লেখা আলোকরেখাকে সমৃদ্ধ করেছে। আমি আশা করবো তাঁর আরো ভালো ভালো লেখা আলোকরেখায় প্রকাশের সুযোগ পাবো। এইভাবেই সকল লেখক পাঠকদের সহায়তায় খুব শীঘ্রই দশ লক্ষে পৌঁছে যাবে। আলোকরেখার চলার পথ সুন্দর ও সুগম হোক সবাইকে সাথে নিয়ে এই কামনা করি। সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। ভালো থাকবেন ও আলোকরেখার সাথে থেকে বেশি বেশি পড়বেন। অনেক অনেক ভালোবাসা ও শুভেচ্ছা।
ReplyDeleteThis comment has been removed by the author.
DeleteThank you Sanjida Rumi Bhabi for giving me the opportunity to publish my novel in Alokrekha.
Deleteশুভাশীষ ও নীলেশ্বরী বিমূর্ত হয়েও আমাদের কাছে মূর্তমান। শুভাশীষকে চিঠি ' এটি উচ্চমানের ও হৃদয়ের গভীর অনুভূতি দিয়ে লেখা একটা "মাস্টার পিস্ ".আগের চিঠিগুলো পড়ে চোখ ঝাপসা হয়ে গেছিল বার বার চোখ মুছতে হয়েছে। অনন্য ! এবারে বিশ্বমানের সাহিত্য। অনেক অনেক ভালোবাসা ও শুভেচ্ছা।
ReplyDeleteThank you for your comment.
Deleteলেখক মুনা চৌধুরীর "শুভাশিস কে চিঠি' লেখায় শুভ আর নীলের প্রেমের কথা,অধ্যাত্মবাদ,রবীন্দ্রনাথ ,আবুল হাসান আর সুরাইয়া জুটি।মাহমুদ দারবিশ রুমির সুফিবাদ শুধু অভিব্যক্ত হয়ে নি। শাফকাত আমানত আলীর খামাজ- ‘মোরা সাইয়া মোসে বোলে না’…. ওর প্রেয়সী ওর সাথে কথা বলছে না, ও হয়ে গেছে শূন্য ঘর, ওর দৃষ্টি শুধুই খুঁজে বেড়াচ্ছে হারিয়ে যাওয়া প্রেয়সীকে। সেই অদ্ভুত সুরের ব্রীড়ায়, বোধে, আর্তিতে, pathos আর প্রেক্ষাপনে আমিও আটকে গেছি। ইত্যাদি উঠে এসেছে। এই "মাস্টার পিস্ " উচ্চ মানের লেখার জন্য যত প্রশংসা যায় কম। লেখক প্রশংসা ও স্তুতির দাবিদার। লেখার অপেক্ষায় থাকলাম। অনেক শুভ কামনা।
ReplyDeleteঅনেক ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা নন্দিতা. ভালো থাকবেন.
Deleteপ্রথম পর্ব থেকে এই পর্বে নীল বিষেশ করে শুভাশীষ অনেক পরিপক্ক। এখানেই লেখকের সার্থকতা। একটা কাল্পনিক চরিত্রকে বাস্তব করে তুলে ধরা ,প্রতিটি চিঠি এক একটা যেন ইতিহাস। কালের স্বাক্ষী। খুব ভালো লাগলো। ভালো থাকবেন আরো ভালো ভালো লেখার আশায় থাকলাম।
ReplyDeleteশুভাশীষ বিশ্বাসীদের দলে ভিড়ে গেলো. We lose things to achieve something greater, dont we. Thank you for your comment.
Deleteলেখক মুনা চৌধুরী'র লেখা "শুভাশীষকে চিঠি' জীবনের এমন গভীর ভাবনা, প্রতিফলন ও তার অভিব্যক্তির প্রকাশ।যেমন বিষয় বস্তু, তেমনি চমৎকার ভাষাভাব অপূর্ব ও শব্দচয়ন ও রচনা শৈলী মিলিয়ে অনবদ্য ও অনিন্দ্য । বড্ডো ভালো। অনেক ভালোবাসা লেখককে।
ReplyDeleteThank you.
Deleteএতদিন পর একটা দারুন লেখা পড়লাম। কি দুর্দান্ত ও পরিণত লেখা। লেখক যে গবেষণা করেছেন তার জন্য সাধুবাদ। লেখকের বাংলা ও ইংরেজি সাহিত্যের উপর দক্ষতা প্রশংসার দাবীদার।লেখক মুনা চৌধুরীকে অনেক শুভাশীষ ও আলোকরেখাকে ধন্যবাদ।
ReplyDeleteঅনেক ধন্যবাদ আপনাকেও
Deleteলেখক মুনা চৌধুরীর শুভাশীষকে চিঠি' দারুন অনবদ্য লেখা ! আমরা অপেক্ষায় থাকি আপনার লেখা পাবার জন্য। আলোকরেখাকে সাধুবাদ জানাই এমন একটা লেখা প্রকাশের জন্য মন ও মননের সুগভীর অনুচিন্তন,ভাব,আশাবাদ,প্রেরণার অভিব্যক্তি ছায়া দেখতে পাই । অপূর্ব শব্দশৈলী চমৎকার। অপরূপ-বহুবর্ণ ও ভাষার প্রকাশ। উত্কৃষ্ট ও চমৎকার সৃষ্ট লেখা । অনেক ভালোবাসা ।আপনার লেখা বই কোথায় পাব জানালে উপকৃত হব।
ReplyDeleteআমি নিয়মিত লেখক নই, তাই শুধুমাত্র আমায় দুটো ছোট্ট কবিতার বই আছে. একটা জাগৃতি প্রকাশিত, অন্যটা প্রকাশনায় ছিল ইতি প্রকাশনী. শাহবাগে জাগৃতির দোকানে আমার কবিতার বই পাবেন. কানাডায় আপনি থাকলে সানজিদা রুমি র কাছে আমার বই পাবেন. ধন্যবাদ আপনাকে.
Deleteআমি আগেও লিখেছি আবারো একই কথা লিখছি। অপূর্ব !দুর্দান্ত লেখা। মুনা চৌধুরীর শুভাশীষকে চিঠি' শুধু দুজনার চিঠির মাধ্যমে জীবনের আদান প্রদান নয়। এটা সম্পূর্ণ একটা সাহিত্য। প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সাহিত্যের মিলন। এবার যুক্ত হয়েছে আবুল হাসান আর সুরাইয়া জুটি।মাহমুদ দারবিশ রুমির সুফিবাদ। বার বার পড়তে হযেচে আর স্বাদ আস্বাদন করার জন্য। খুবই উচ্চ মার্গীয় লেখা। এমন লেখা লিখতে অনেক পড়াশোনা আর গবেষণার প্রয়োজন , তা প্রতক্ষ্য করি এই লেখায়। অনেক ভালবাসা লেখক মুনা চৌধুরীকে আরো ভালো ভালো বিশ্বসাহিত্য আমাদের পড়ার ও জানার সুযোগ করে দিন। ভালো থাকবেন।
ReplyDeleteMy heartfelt gratitude Mazhar Bhai.
Deleteপ্রতিটি চিঠি এটা সম্পূর্ণ একটা সাহিত্য। প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সাহিত্যের মিলন। এবার যুক্ত হয়েছে আবুল হাসান আর সুরাইয়া জুটি।মাহমুদ দারবিশ রুমির সুফিবাদ মির্চা রবীন্দ্রনাথ অথবা তুর্কি সুফিবাদ বিশ্বসাহিত্যের মেলবন্ধন। মুনা চৌধুরীর শুভাশীষকে চিঠি' দারুন অনবদ্য লেখা! শুধু শব্দমালায় অংকিত কতগুলো চিঠি না। এখানে লেখক রীতিমত গবেষণা । সাথে লেখককে আন্তরিক অভিনন্দন আমাদের আলোকিত করবার জন্য।
ReplyDeleteআপনাদের ভালোবাসায় আমি মুগ্ধ. অনেক ধন্যবাদ.
ReplyDeleteদারুন অনবদ্য লেখা! শুধু শব্দমালায় অংকিত কতগুলো চিঠি না। এখানে লেখক রীতিমত গবেষণা । লেখকের জ্ঞান ও প্রজ্ঞা প্রশংসার দাবীদার । অধির আগ্রহে সব চিঠিগুলো বারবার পড়লাম ।মনটা ভরে গেল অনেক ভালবাসা । আলকরেখাকে ধন্যবাদ ।
ReplyDeleteIt made me very happy to hear মনটা ভরে গেল. God bless and keep reading :)
Deleteমুনা চৌধুরীর লেখা যেমন চমৎকার তেমনই তাঁর পাঠকদের প্রতি শিষ্টাচার।আমি লক্ষ্য করলাম তিনি পাঠকদের মন্তব্য অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে পড়েন এবং তার প্রতিটি মন্তব্যের উত্তর দিয়ে থাকেন।এটাই একজন পরিশালিত ও অমায়িক লেখক ও কবির পরিচয়।আলোকরেখা আমরা পড়তে ভালোবাসি অনেক ভালো ভালো লেখা পাই। আমাদের মন ও মননের খোরাক। তাই ভালোবেসে আমরা মন্তব্য করি কবি ও লেখকদের মূল্যায়ন করি। কিন্তু গভীর দুঃখের সাথে বলতে হয় তাদের কাছ থেকে কোন রকমের সারা আমরা পাই না। মুনা চৌধুরী তার ব্যতিক্রম। দুটো শব্দও প্রতিউত্তরে পাই তাতেই আমাদের অনেক পাওনা। অনেক অনেক ভালোবাসা ও ধন্যবাদ মুনা চৌধুরীকে। ভালো থাকবেন। আরো ভালো ভালো লেখার অপেক্ষায়।
ReplyDeleteAppreciated to accept me as a writer in the Alokrekha family. God bless.
Deleteমুনা চৌধুরীর শুভাশীষকে চিঠি' দারুন অনবদ্য লেখা! অপূর্ব ভাব! অনন্য উপমা! শব্দের মুক্তা মালা!আবাহন প্রানের! অনেক সুন্দর লেখা! আমিও একমত যে শুভাশীষকে চিঠি' শুধু মুনা চৌধুরীর শব্দমালায় অংকিত কতগুলো চিঠি না। এখানে লেখক রীতিমত গবেষণা বিশ্বসাহিত্যের। আবুল হাসান আর সুরাইয়া জুটি।মাহমুদ দারবিশ রুমির সুফিবাদ মির্চা রবীন্দ্রনাথ অথবা তুর্কি সুফিবাদ উঠে এসেছে। লেখককে আন্তরিক অভিনন্দন আমাদের আলোকিত করবার জন্য.
ReplyDeleteGratitudes.
Deleteচিঠিগুলো শুধু শুভাশীষ ও নিলীশ্বরী'র ভালবাসার আদান প্রদান নয়। উচ্চ মার্গের সাহিত্য। এখানে দুজনের ভালো বাসার কথা ,ব্যক্তিগত জীবন যাত্রা সুফিবাদ বিশ্ব সাহিত্য গল্পের চলে লেখককের লেখাকে করেছে সমৃদ্ধ। অনেক শুভাশিস লেখক মুনা চৌধুরীকে। সাথে আলোকরেখাকে ধন্যবাদ এমন উচ্চ মানের লেখা প্রকাশ করার জন্য।
ReplyDeleteThank you.
Deleteশুভাশিস কে চিঠি' লেখক মুনা চৌধুরীর লেখায় শিক্ষা, প্রজ্ঞা, জ্ঞান, সংস্কার সবটুকুই পাই। বিশেষ করে অধ্যাত্মবাদ সাহিত্য সে প্রাচ্যের হোক বা পাশ্চাত্যের হোক অনবদ্য রূপে অভিব্যক্ত হয়েছে। সমাজের উচ্চ শ্রেণীর রূপ অংকিত হয়েছে চিঠি লেখার ছলে। সব মিলিয়ে অনবদ্য এক সাহিত্য। অনেক ভালো থাকুন আরো এমন লেখা উপহার দিন এই কামনা করি।
ReplyDeleteThank you Rebecca.
Deleteআমার বলার কিছু নেই। শুধু বার বার পড়লাম। তোমাকে দিয়েই সম্ভব।। আমি অভিভূত।।
ReplyDeleteAzizun ? Thank you my friend.
ReplyDeleteআমি মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে পড়েছি
ReplyDeleteআমি আকণ্ঠ পান করেছি
আমাকে আপনি এক ঐশিক, অলোকিক জগতে ভ্রমণ করিয়েছেন
তবে আমার নিজের উপলব্ধিতে অবিনশ্বর ঈশ্বরকে
বারবার দেখেছি
আজও দেখতে পাই
তাঁর অপার সুন্দর সৃস্টির মধ্যে দিয়ে
তাঁর অযুত আলোর সন্ধান পাই মানুষকে অসম্ভব ভালোবেসে
মুনা চৌধুরী আপনার এই অসাধারণ লেখার জন্য
আন্তরিক অভিনন্দন
অনেক ধন্যবাদ.
ReplyDelete